HSC ICT 3rd Chapter সংখ্যা পদ্ধতি নোট ও MCQ – ডাউনলোড করুন
25/10/2026

সংখ্যা পদ্ধতি কত প্রকার ও কি কি?
এইচএসসি আইসিটি ৩য় অধ্যায় সংখ্যা পদ্ধতি (HSC ICT Chapter 3 Number System) হলো কম্পিউটার সায়েন্সের সবচেয়ে ভিত্তিগত এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কম্পিউটার যেহেতু বাইনারি (০ ও ১) দিয়ে কাজ করে, তাই সংখ্যা পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছাড়া প্রোগ্রামিং, ডেটা রিপ্রেজেন্টেশন বা নেটওয়ার্কিং কিছুই বোঝা সম্ভব নয়। তাই এই অধ্যায়টি ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
সংখ্যা পদ্ধতি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত: অবস্থানভিত্তিক (Positional) ও অবস্থানহীন (Non-positional)। অবস্থানভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতিতে প্রতিটি অঙ্কের মান তার অবস্থানের উপর নির্ভর করে। আবার অবস্থানভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতিকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়— বাইনারি (Base-2), অক্টাল (Base-8), ডেসিমেল (Base-10) এবং হেক্সাডেসিমেল (Base-16)। অন্যদিকে রোমান সংখ্যা পদ্ধতি হলো অবস্থানহীন পদ্ধতির একটি উদাহরণ, যেখানে অঙ্কের অবস্থান বদলালেও মান একই থাকে।
সহজ ভাষায়, সংখ্যা পদ্ধতি কত প্রকার ও কি কি— এই প্রশ্নের উত্তর হলো চারটি প্রধান প্রকার: বাইনারি, অক্টাল, ডেসিমেল ও হেক্সাডেসিমেল। নিচের টেবিলে এদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| পদ্ধতি | বেস | ব্যবহৃত অঙ্ক | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| বাইনারি | ২ | ০, ১ | (1011)₂ |
| অক্টাল | ৮ | ০–৭ | (75)₈ |
| ডেসিমেল | ১০ | ০–৯ | (259)₁₀ |
| হেক্সাডেসিমেল | ১৬ | ০–৯, A–F | (2AF)₁₆ |
বাইনারি থেকে ডেসিমেল রূপান্তর (Binary to Decimal Conversion in Bangla)
Binary to Decimal Conversion in Bangla শেখার সময় প্রথমেই বুঝতে হবে প্রতিটি বাইনারি বিটের একটি নির্দিষ্ট পজিশনাল মান (Place Value) রয়েছে। ডান দিক থেকে শুরু করে প্রতিটি বিটের মান ২ এর ঘাত হিসেবে বাড়ে: ২⁰=১, ২¹=২, ২²=৪, ২³=৮, ২⁴=১৬ ইত্যাদি। বাইনারি সংখ্যার প্রতিটি বিটকে তার অবস্থান অনুযায়ী ২ এর ঘাত দিয়ে গুণ করে সব যোগ করলেই ডেসিমেল মান পাওয়া যায়।
উদাহরণস্বরূপ, (1011)₂ কে ডেসিমেল করতে হলে: ১×২³ + ০×২² + ১×২¹ + ১×২⁰ = ৮ + ০ + ২ + ১ = ১১। অর্থাৎ (1011)₂ = (11)₁₀। ভগ্নাংশের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য, তবে সেক্ষেত্রে ডান দিকে ঋণাত্মক ঘাত (২⁻¹, ২⁻²) ব্যবহার করতে হয়।
পরীক্ষার জন্য একটি সহজ ট্রিক হলো— ডান দিক থেকে ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২... এভাবে মান লিখে যেখানে ১ আছে সেগুলো যোগ করে ফেলা। এই পদ্ধতিতে খুব দ্রুত হাতে হিসাব করা সম্ভব।
ডেসিমেল থেকে বাইনারি রূপান্তর
ডেসিমেল থেকে বাইনারিতে রূপান্তরের জন্য পূর্ণসংখ্যার ক্ষেত্রে ভাগ পদ্ধতি (Division Method) ব্যবহার করা হয়। সংখ্যাটিকে ধারাবাহিকভাবে ২ দিয়ে ভাগ করতে হয় এবং প্রতিটি ভাগশেষ (Remainder) লিখে রাখতে হয়। ভাগফল ০ না হওয়া পর্যন্ত ভাগ করতে হয়, তারপর ভাগশেষগুলো নিচ থেকে উপরে (Reverse Order) পড়লেই বাইনারি সংখ্যা পাওয়া যায়।
উদাহরণ: (13)₁₀ কে বাইনারিতে রূপান্তর করতে— ১৩÷২=৬ ভাগশেষ ১; ৬÷২=৩ ভাগশেষ ০; ৩÷২=১ ভাগশেষ ১; ১÷২=০ ভাগশেষ ১। ভাগশেষগুলো নিচ থেকে উপরে পড়লে পাই (1101)₂।
ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে গুণ পদ্ধতি (Multiplication Method) ব্যবহার করা হয়, যেখানে সংখ্যাটিকে বারবার ২ দিয়ে গুণ করে পূর্ণসংখ্যা অংশটি নোট করা হয় এবং উপরে থেকে নিচে পড়া হয়। এই দুটি পদ্ধতি ভালোভাবে অনুশীলন করলে এইচএসসি পরীক্ষার সংখ্যা রূপান্তরের প্রশ্নগুলো সহজেই সমাধান করা যাবে।
অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতি
অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির বেস ৮ এবং এতে ০ থেকে ৭ পর্যন্ত আটটি অঙ্ক ব্যবহৃত হয়। হেক্সাডেসিমেল পদ্ধতির বেস ১৬ এবং এতে ০–৯ পর্যন্ত দশটি অঙ্কের সাথে A, B, C, D, E, F (যাদের মান যথাক্রমে ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫) ব্যবহৃত হয়। কম্পিউটারে বড় বাইনারি সংখ্যাকে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে এই দুই পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়।
অক্টাল থেকে ডেসিমেলে রূপান্তরে প্রতিটি অঙ্ককে ৮ এর ঘাত দিয়ে গুণ করে যোগ করা হয়, আর ডেসিমেল থেকে অক্টালে যেতে ৮ দিয়ে ধারাবাহিক ভাগ করতে হয়। একইভাবে হেক্সাডেসিমেলে ১৬ এর ঘাত ও ১৬ দিয়ে ভাগ ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ: (2F)₁₆ = ২×১৬ + ১৫×১ = ৩২+১৫ = ৪৭।
মনে রাখতে হবে, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল— উভয়ই মূলত বাইনারির সংক্ষিপ্ত রূপ। বাইনারির ৩টি বিট = ১টি অক্টাল অঙ্ক এবং বাইনারির ৪টি বিট = ১টি হেক্সাডেসিমেল অঙ্ক। এই সম্পর্ক জানা থাকলে যেকোনো রূপান্তর সহজ হয়ে যায়।
বাইনারি থেকে হেক্সাডেসিমেল রূপান্তর (How to Convert Binary to Hex in Bangla)
How to Convert Binary to Hex in Bangla শেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বাইনারি সংখ্যাটিকে ডান দিক থেকে ৪টি বিটের গ্রুপে ভাগ করা। কারণ হেক্সাডেসিমেলের প্রতিটি অঙ্ক ৪টি বাইনারি বিটের সমতুল্য। গ্রুপ ভাগ করার সময় বাম দিকে বিট কম পড়লে বাম পাশে প্রয়োজনীয় শূন্য বসিয়ে পূরণ করতে হবে।
উদাহরণ: (11010110)₂ কে গ্রুপ করলে পাই— 1101 এবং 0110। এখন 1101 = D (১৩) এবং 0110 = ৬। সুতরাং (11010110)₂ = (D6)₁₆। প্রতিটি গ্রুপের মান ৮, ৪, ২, ১ এর যোগফল হিসেবে বের করা যায়, যা অনেক দ্রুত কাজ করে।
ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে দশমিক বিন্দুর পর থেকে ডান দিকে ৪ বিট করে গ্রুপ করতে হয়। এই গ্রুপিং পদ্ধতি আয়ত্ত করলে বাইনারি-হেক্সাডেসিমেল রূপান্তরের যেকোনো MCQ সেকেন্ডের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব।
অক্টাল থেকে হেক্সাডেসিমেল রূপান্তর
অক্টাল থেকে হেক্সাডেসিমেল রূপান্তর করার সবচেয়ে সহজ ও পরীক্ষায় বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো— প্রথমে অক্টাল সংখ্যাটিকে বাইনারিতে রূপান্তর করা, তারপর সেই বাইনারিকে ৪ বিটের গ্রুপে ভেঙে হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর করা। অক্টালের প্রতিটি অঙ্ককে ৩ বিটের বাইনারিতে এবং হেক্সাডেসিমেলের প্রতিটি অঙ্ককে ৪ বিটের বাইনারিতে প্রকাশ করা হয়।
উদাহরণ: (57)₈ কে হেক্সাডেসিমেলে নিতে হলে প্রথমে ৫ = 101 এবং ৭ = 111, ফলে বাইনারি হয় (101111)₂। এখন ডান দিক থেকে ৪ বিটে গ্রুপ করলে পাই— 0010 এবং 1111, যা হলো (2F)₁₆। অর্থাৎ (57)₈ = (2F)₁₆।
বিকল্প পদ্ধতিতে অক্টালকে প্রথমে ডেসিমেলে নিয়ে তারপর ডেসিমেল থেকে হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর করা যায়, তবে এতে সময় বেশি লাগে এবং ভুলের সম্ভাবনা থাকে। তাই পরীক্ষার জন্য বাইনারি-মাধ্যম পদ্ধতিটি বেশি নিরাপদ।
২ এর পরিপূরক করার নিয়ম (2s Complement in Bangla)
২ এর পরিপূরক করার নিয়ম (2s Complement in Bangla) হলো কম্পিউটারে ঋণাত্মক সংখ্যা প্রকাশের সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রথমে সংখ্যাটির বাইনারি রূপ লিখতে হয়, তারপর প্রতিটি বিটের ১ এর পরিপূরক (০-কে ১ এবং ১-কে ০) করতে হয় এবং প্রাপ্ত ফলাফলের সাথে ডান দিকের সর্বনিম্ন বিটে ১ যোগ করতে হয়।
উদাহরণ: ৫ এর ৮-বিট বাইনারি 00000101। ১ এর পরিপূরক = 11111010। এর সাথে ১ যোগ করলে পাই 11111011, যা হলো −৫ এর ২ এর পরিপূরক রূপ। মনে রাখতে হবে, ধনাত্মক সংখ্যার ক্ষেত্রে ২ এর পরিপূরক নিজেই নিজের সমান এবং সর্বোচ্চ বিট (MSB) সবসময় ০ হয়, আর ঋণাত্মক সংখ্যার MSB সবসময় ১ হয়।
এই পদ্ধতির সুবিধা হলো যোগ ও বিয়োগ উভয়ই শুধু যোগের মাধ্যমে করা যায়, ফলে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ডিজাইন সহজ হয়। ২ এর পরিপূরক ব্যবহার করে বিয়োগ করতে হলে প্রথমে বিয়োজনকে ২ এর পরিপূরক করে যোগ করতে হয় এবং অতিরিক্ত ক্যারি বিট বাদ দিতে হয়।
HSC ICT 3rd Chapter MCQ Question with Answer
পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য HSC ICT 3rd Chapter MCQ Question with Answer অনুশীলন করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ বোর্ড পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে অনেক MCQ আসে। সাধারণত বেস নির্ণয়, রূপান্তর, ২ এর পরিপূরক এবং সংখ্যা পদ্ধতির ধারণা থেকে প্রশ্ন তৈরি হয়। নিচে কয়েকটি নমুনা MCQ ও উত্তর দেওয়া হলো:
- (1110)₂ এর ডেসিমেল মান কত? — উত্তর: ১৪
- হেক্সাডেসিমেল পদ্ধতির বেস কত? — উত্তর: ১৬
- (25)₁₀ এর বাইনারি রূপ কোনটি? — উত্তর: 11001
- −৭ এর ৮-বিট ২ এর পরিপূরক কোনটি? — উত্তর: 11111001
- (1101)₂ এর হেক্সাডেসিমেল মান কত? — উত্তর: D
MCQ ভালোভাবে করতে হলে প্রতিটি রূপান্তর পদ্ধতি হাতে-কলমে অনুশীলন করতে হবে। একইসাথে বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্নগুলো সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন সহজেই বোঝা যায়। এইচএসসি আইসিটি ৩য় অধ্যায় সংখ্যা পদ্ধতি থেকে প্রতিবছরই নিয়মিত প্রশ্ন আসে, তাই এখানে বেশি সময় দেওয়া উচিত।
HSC ICT Chapter 3 CQ Suggestion
HSC ICT Chapter 3 CQ Suggestion হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো— সংখ্যা পদ্ধতির প্রকারভেদ, বাইনারি/অক্টাল/হেক্সাডেসিমেল রূপান্তর, ১ ও ২ এর পরিপূরক এবং বাইনারি যোগ-বিয়োগ। বোর্ড পরীক্ষায় প্রায়ই "ক" ও "খ" অংশে সংজ্ঞা ও ছোট হিসাব এবং "গ" ও "ঘ" অংশে রূপান্তর ও পরিপূরক সংক্রান্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন আসে।
সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য নিচের বিষয়গুলো বিশেষভাবে অনুশীলন করা উচিত:
- যেকোনো সংখ্যাকে এক পদ্ধতি থেকে অন্য পদ্ধতিতে রূপান্তর (গ ও ঘ অংশের জন্য)
- ২ এর পরিপূরক ব্যবহার করে বাইনারি বিয়োগ
- অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেলের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা
- একটি সংখ্যার বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রকাশ ও তুলনা
নিয়মিত অনুশীলন এবং সঠিক নোট ব্যবহার করলে এই অধ্যায় থেকে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সহজ। শিক্ষার্থীদের উচিত প্রতিটি রূপান্তর নিজে হাতে লিখে অভ্যাস করা, শুধু পড়ে যাওয়া নয়।
HSC ICT Chapter 3 Note PDF Download ও Sheet PDF
শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা HSC ICT Chapter 3 Note PDF Download এবং একটি সংক্ষিপ্ত Sheet PDF তৈরি করেছি, যেখানে সব রূপান্তর পদ্ধতি, সূত্র, উদাহরণ এবং MCQ-সহ সম্পূর্ণ অধ্যায় সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে। এই নোটটি পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশনের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
PDF-এ যা যা থাকছে:
- সংখ্যা পদ্ধতির চারটি প্রকারের বিস্তারিত আলোচনা
- সব ধরনের রূপান্তরের ধাপে ধাপে উদাহরণ
- ২ এর পরিপূরক ও বাইনারি বিয়োগের নিয়ম
- MCQ ও সৃজনশীল প্রশ্নের সাজেশন
- দ্রুত রিভিশনের জন্য এক পাতার শিট
নিচের ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে সম্পূর্ণ নোট ও শিট সংগ্রহ করে নিন এবং প্রস্তুতি শুরু করে দিন। মনে রাখবেন, এইচএসসি আইসিটি ৩য় অধ্যায় সংখ্যা পদ্ধতি ভালোভাবে শিখলে পুরো আইসিটি বিষয়ে আপনার ভিত্তি মজবুত হয়ে যাবে।